বাংলার ট্যুরিষ্ট

বাংলার ট্যুরিষ্ট

মিশন বান্দরবন

সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভুমি বান্দরবান। এটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।যেখানে আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায়, এই সেই পাহাড়ের বন বান্দরবন। অসংখ্য আকাশ চুম্বি পাহাড় রয়েছে অগণিত ,যার গনণার শেষ নেই।
এটি বেড়ানোর খুবই চমৎকার সময় এ জন্য যে, এ সমায় তেমন শীতও নেই আবার তেমন গরমও নেই,আবার বৃষ্টি বাদল বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না! সেই সময় হল জানুয়ারি অথবা মার্চের মাঝামাঝি কোন এক সময় ।
কিন্তু একটি মজার ব্যপার হলো যে, মেঘ করলে এই উুচু পাহাড়ে দাড়িয়ে জমাট বাধা মেঘ ছোঁয়া যায়, একটু মেঘ হলে শীতল হাওয়া গা ঘেষে ছুয়ে যায়। কী মজাই না আপনাকে দিবে,অপরূপ প্রকিৃতির স্নিগ্ধ মমতা। যার কারনে থাকা- খাওয়া,ঘোরাঘুরি হয় সহজ ও সুলভ। বাংলাদেশের পার্বত্য তিনটি জেলার মধ্যে বান্দরবান অন্যতম। সেখানে গেলে দেখবেন পাহাড়ী জীবন যাত্রা, সংস্কৃতি আর মুগ্ধ হয়ে দেখবেন পাহাড়ের গায়ে মেঘেদের মেলা আর সূর্যের আবির মাখামাখি।
অবস্থান: ঢাকা থেকে ৩৩৮ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান। উত্তরে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি,দক্ষিণে মিয়ানমার,পশ্চিমে কক্সবাজার,পূর্বে রাঙামাটি ও মিয়ানমার। এর আয়াতোন প্রায় ৪৪৮০ বর্গকিলোমিটার! বান্দরবান জেলার নাম করন নিয়ে কিংবদন্তি ইতিহাস রয়েছে। বলা হয়ে থাকে বর্তমান বান্দরবান শহরের অপরপ্রন্তে কলো পাহাড় ও একটি ঝরণা রয়েছে। সেই ঝরণার পানি পান করতে আসতো অসংখ্য বানোর দল, বানরগুলো দল বেধেঁ সাংগু নদী পার হতো। তাদের এক সাথে দল বাঁধা দৃশ্যকে মনে হতো বাঁধের মতো। আর এখান থেকে বান্দরবান শব্দাট এসেছে বলে ধারনা করা হয়! বান্দরবনে প্রধান নদী সাংগু, মাতামুহুরী। সাংগু বাংলাদেশে অভ্যন্তরে সৃষ্টি একমাত্র নদী!এর অন্য নাম সঙ্খা।পাহাড়ের পা ছুঁয়ে এঁকে বেঁকেচলা সঙ্খ নদীর অপরুপ সৌন্দার্য আপনাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে। বান্দরবনে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ সৃঙ্গ তাজিংডং বা বিজয়। নানান দৃশ্য চোখে পড়ার মতো কয়েকটি।
দেখার মতো অনেক স্পট আছে বান্দরবনে । তবে এক দিনে শেষ করতে হলে কৌশাল খাটিয়ে আপনার ভ্রমন করতে হবে! সাধারনতো অল স্পট বলতে ছয়টি স্পট বুঝায়-শৈল প্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরী, নীলাচল, মেঘলা ও স্বর্নমন্দির।
কীভাবে যাবেন : ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে যে কোন বান্দরবনগামী বাসে যেতে পারেন ও মনে রাখবেন বান্দরবন যেতে বাসের কোন বিকল্প নেই। বাসের ভাড়া নিবে ৪৫০বা ৫০০টাকা! যেতে সমায় লাগবে ১২ ঘন্টা! বাস স্টান্ডের কাছে পাবেন জীপ! লোক সংখ্য অনুযায়ী বড় বা ছোট জীপ ভাড়া করতে পারবেন! অবশ্যই ভাড়া ঠিক করে নিবেন ,ভাড়া পড়বে ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকা মাত্র। মনে রাখতে হবে সকল স্পট বিকাল ৬ টায় বন্ধ হয়ে যায়।
DSC01421শৈল প্রপাত : নীলগিরীর পথে প্রথমেই পড়বে যা শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে । এখানে আছে পাথরের গায়ে বয়ে চলা ঝর্ণার শীতল পানি, সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার আনন্দ আর গভীর খাদ। ও এখানে কিন্তু উপজাতিদের তৈরী করা বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর জিনিস ক্রয় করতে পারবেন।
চিম্বুক পাহাড় : চিম্বুক দেশের অন্যতম উঁচু পাহাড় যার উচ্চতা ৮৯৮ মিটারে এর উপর উঠতে বেশ কষ্টদায়ক কেননা পাহাড় চড়ার অভ্যাস প্রয়োজন কিন্তু আমাদের তা ছিলনা, এটা শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্তিত।
নীলগিরিনীলগিরী : শহর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নীলগিরী হিল স্পট । এখানে প্রতি জনের প্রবেশ মূল্য নিবে ৫০ টাকা এবং পার্কিং ফি বাবদ ফি নিবে ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা ।

এখানে আর্মি পরিচালিতো রির্সোট ও ছোট ছোট কটেজ রয়েছে ! রয়েছে রেস্তরা ও হেলিপ্যাড। এখানে ছোট একটি ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে ইচ্ছে হলে খেতে পারেন আপনার পছন্দের খাবার। সুউচ্চ পাহাড়ের উপর এই জায়গাটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। ইচ্ছে করবে এখান থেকে যেতে ছোট কটেজের জানালার ফাকা দিয়ে তাকিয়ে বাইরের নীল দৃশ্য অবোলোকন করতে। কবি, শিল্পীর ন্যায় আপনার মনে ও আনন্দের হিল্লোলে জেগে উঠবে , আর অপনার  ভালবাসার সেই প্রিজনের কথা এক বার হলে ও মনে পড়বে। চলে যেতে চাবে সেই হারানো অমরাবতী নীড়ে।

স্বর্নমন্দিরস্বর্নমন্দির : এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহওম বৌদ্ধ মন্দির  বুদ্ধজাধী স্বর্নমন্দির এর প্রধান মিনারটি সহ মোট ১০ টি মিনার আছে, এ মিনারের উপারের অংশ সর্ম্পনূ স্বর্ন দিয়ে তৈরী করা। এবং ভিতরের আলোকসজ্বা যে কারো মন আনন্দে আত্মহারা হবেই!প্রতিদিন শত শত পাহাড়ী সুন্দারী ললনার পদচারণ ঘটে এই মন্দিরের দেবতার সান্নিদ্ধ পেতে।
মন্দির দেখার আনন্দে সব কিছু ভুলে যাবেন । পাহাড়ের চুড়ায় এই মন্দির থেকে নিচে তাকালে অসাধারন দৃশ্য।এখানে দেখতে আসে প্রতি দিন শত শত পর্যটক এটি একটি মনো মুগ্ধকর প্রশান্তির জায়গা ,দেখলে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে।
\
নিচে রয়েছে হাজার প্রজাতির গাছ গাছালি। বিভিন্ন রঙের প্রকৃতির ছবি।

মেঘলামেঘলা : শহর থেকে চার কিলোমিটার দূ্রে কেরানিহাট রোডে অবস্থিত এটি! এখানে রয়েছে পাহাড় ঘেরা হ্রদ,মিনি সাফারি পার্ক,ঝুলান্ত সেতু,ও চিড়িয়াখানা! প্রবেশ মুল্য ১০ টাকা প্রতি জন!
অবাক হওয়ার মত বিষয় যে ঝুলন্ত সেতু থেকে নিচে তাকালে সুবিশাল হ্রদে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখতে পারবেন!

নীলাচলনীলাচল : সূর্যস্তের আগ মুহূর্তে নীলাচলের পর্যটন কেন্দ্রে হাজির হতে পারেন ! পাহাড়ের চূড়ায় এই জায়গায় থেকে ডানে দেখবেন বান্দরবান শহরটাকে খেলনার মতো মনে হবে !বাঁয়ে সাত হাজার ফুট নিচে আঁকা বাঁকা রাস্তা আর সামনে পাহাড়ের কোলে সূর্য ঢলে পড়ার দৃশ্য !
এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনাকে একবার যেতেই হবে বান্দরবনে সীমাহীন সৌন্দার্য দেখতে!
এছাড়াও যদি সময় থাকে তবে ঘুরে আসতে পারেন সমূদ্রপৃষ্ঠে! তিন হাজার ফুট উঁচুতে প্রাকিৃতির হ্রদ বগা লেক থেকে এটি রূমা উপজেলা সদর থেকে ১৮ কি: মি: দূরে রয়েছে !
আবার যদি আপনার ম্যানি ব্যাগের অবস্থা ভাল থাকে তাহলে ছুটে যেতে পারেন বাংলাদেশের শেষ সীমানায় র্দাজলিং শহরটার দিকে একবার চোখ বুলাতে।
কোথায় থাকবেন : মধ্যম মান থেকে বিলাশবহুল হোটেল রয়েছে এই বান্দরবান শহরে! হোটেল অতিথী ,পাহাড়িকা গেষ্ট হাউজ ,হোটেল গ্রীন হীল , হোটেল হিলবার্ড, হোটেল থ্রি-ষ্টার হোটেল পূরবী ইত্যাদি ছাড়াও পর্যটন করপোরেশনের মোটেল রয়েছে !আপনার সমার্থ্য অনুযায়ী যে কোনোটি বেছে নিতে পারেন।

0 টি মন্তব্য:

Post a Comment