বাংলার ট্যুরিষ্ট

বাংলার ট্যুরিষ্ট

জাবেল হাফিত পর্বতের অপরূপ সৌন্দয্য (ছবিব্লগ)।। লিখেছেনঃ রফিকুজজামান লিটন

জাবেল হাফিত আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ পাহাড়। পাহাড়টির উচ্চতা ৪০৯৮ ফিট। পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে সমতল থেকে প্রায় ১২ কি. মি. পথ পারি দিতে হয়। এটি আরব আমিরাতের "আল আইন" নামক শহরে ওমান বর্ডারের কাছে অবস্থিত। আশরাফ ভাই বলছেন আল আইন এসেছেন আর জাবেল হাফিতে যাবেন না এটা কি হয় ? চলেন ঘুরে আসি। আমরা শহর থেকে পাহাড়ের দিকে যেতে শুরু করছি। সাথে আছে আশরাফ ভাই, ভাবি , ফজলু ভাই । আশরাফ ভাই গাড়ি ড্রাইভ করছে। রাতের আলোতে আল আইন শহরটা বেশ ভলো লাগছে। অনেক গাছ , প্রসস্থ রাস্তা , নেই কোনো জ্যাম। কিছুদুর যেতেই দূর থেকে চোখে পড়ল উচু পাহাড়। 

উঁচু উঁচু সব পাহাড়। যেন হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে।মনে হছে কিছু পাহাড় উঁকি দিচ্ছে দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে। পাহাড়গুলো অন্যরকম।পাহাড়ী আকাবাঁকা রাস্তাকে দূর থেকে সাপের মতো পেছানো মানে এমন মনে হচ্ছে যে, একটা দীর্ঘ সাপ যেন একটির পর একটি পাহাড়কে পেছিয়ে রেখেছে । আর সে ফণা তুলে আছে পাহাড়ের চূড়ায়। পাহাড়ী রাস্তায় গাড়ি চালানো একটু ভুল হলেই যেন বিষদাত বসিয়ে দিবে। অবাক হয়ে সেই সব দৃশ্য দেখে দেখে ক্রমশ উপর দিকে উঠছি।পাহাড়ের সাথে সবুজের সঙ্গে কোনো বন্ধুত্ব নেই। পাহাড়ের চারপাশে কিছুটা সবুজ মনে হচ্ছে । রাতের ল্যাম্পস্টের আলো আধারিতে পাহাড়গুলোকে রূপসী রমণীর মতো দেখাচ্ছে । লাবণ্যময়ী এ পাহাড়ের গায়ের রং নিয়ন বাতির রং ধারণ করছে। স্বপ্নের মতো দাড়িয়ে আছে পাহাড়গুলো। আমাদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা। ওগুলো অদ্ভুত, খুব সুন্দর। পাহাড়ের নয়াভিরাম দৃশ্যে বিমোহিত। 
 
[আঁকা বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা]
 
[আঁকা বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা]
 
[আশরাফ ভাই, আমি , ফজলু ভাই আর ভাবি ক্যামেরার পিছনে ]








চলতে চলতে পাহাড়ের মধ্যখানে পার্কিংয়ে থামছি । পাহাড়ে উঠতে অনেকগুলো পার্কিং চোখে পড়ল রাস্তার পাশেই। সেখানে গাছের কাঠের মাঝে খুদাই করে পাথর দিয়ে লিখে হয়েছে বর্ণিল সব ইতিহাস। আমরা ছবি তুলে উপরের দিকে যাচ্ছি। যত সাহসী হোক না কেন মনের মাঝে একটু করে হলেও আতংক ভর করা অস্বাভাবিক নয়। এই রাস্তায় বড় কোনো দুর্ঘটনা হয় নি আশরাফ ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে বেশ আশস্থ হলাম। যাক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। রাস্তাটা অতোটা ভয়ংকর নয় যতটা আমাদের বান্দরবন নীলগিরি রুট। রাস্তার পাশে রলিং দেয়া আছে। তার পর ও ভাবছি আমাদের গাড়িটা এখান থেকে স্লিপ করে তাহলে আমাদের আর খুঁজে পাওয়া সব্ভব নয়। বড় গাড়ি আর আশরাফ ভাই বেশ ভালো ড্রাইভ করছে সো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা খুবই কম। আশরাফ ভাই এবং ফজলু ভাই আমাকে বেশ পচানোর চেস্টা করছে কিন্তু ভাবি আমাকে সাপোর্ট দেয়ার খুব একটা মজা করতে পারছে না। পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য জাবেল হাফিতের নীচে আছে লেক। দৃষ্টিনন্দিত সুইমিংপুল । পাহাড়ের কারে যেতে চোখে পর্বে ৫ তারা হোটেল , পার্ক , রুলারের বাড়ি।


[রাতের আল আইন শহর]

[রাতের আল আইন শহর]

[পাহাড়ের উপর ৫ স্টার মারকুরি গ্র্যান্ড হোটেল ]

আমরা চূড়ায় পৌঁছে চা হাতে নিয়ে আল আইন শহরটাকে দেখছি। রাতের বেলায় এ যেন অন্য ভুবন, অনন্য রুপ। চারদিকে কেবল নিয়ন বাতির রাজত্ব। নয়ন জুড়ানো বর্ণিল আলোর মেলা। যেন এক স্বপ্নদৃশ্য। হু হু করে হাওয়া বইছে । এমন মন মাতানো হাওয়ায় কিছুটা আনমনা হয়ে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে অপূর্ব এক সুন্দর মন মাতানো অনুভূতি নিয়ে দুবাইয়ের পথে রওনা হলাম। 

0 টি মন্তব্য:

Post a Comment